Translate

Friday, August 14, 2020

বিরোধীদের অত্যাচার- আর কাহাতক। প্রেক্ষাপট ১৯৯০ -২০১৩/২০২০।

১৯৯০ সালের গনজাগরনের সময় আমার বয়স ছিলো ১০/১১.। আমি তখন কিশোর। কিশোর বয়স থেকেই আমি জয় বাংলা বলতে পছন্দ করি। সামরিক সরকারের পতন বা স্বৈরাচার সরকারের পতনের আন্দোলনের সময়ে দাবী উঠেছিলো ”রাজাকারের ফাসি চাই।” ্সেই সময়ে রাজাকারের ফাসি কার্যকর হয় নাই এবং এমনকি তাদেরকে গ্রেফতারও করা হয় নাই। শ্রদ্বা জানাই সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ছাত্রীদের যারা সেই সময়ে এই আন্দোলন গড়ে তুলেছিলো যেটাকে দেশবিরোধী কুচক্রী মহল দু:সাহসিক বলে অভিহিত করেছিলো। স্বৈরাচার সামরিক শাসক এবং শাসনের পতন ঘটলো এবং গনতান্ত্রিক পদ্বতির সরকার উঠে আসলো কিন্তু বিবাদ বাদলো একখানে - দেশবিরোধী কুচক্রী মহল জামাত শিবির চক্র সংসদ কিছু আসন পেয়ে বসলো (আমি আজো বিশ্বাস করি না এই দেশের মানুষ জামাত শিবির বা রাজাকার পন্থীদের ভোট দিছে বা দিতে পারে)  । এমনকি এমন একটা অবস্থা তৈরী হলো যে তাদের সাপোর্ট ছাড়া সরকার গঠন করতে বেত পেতে হইতছিলো তখনকার রাজনৈতক দলগুলোর [ভেবে দেখবার মতো বিষয়] । সংসদ গঠন করতে লাগে ১৫১/১৫২ আসনের জোট। শেষে তারা জোট বেধেও গেলো। শুরু হলো জামাত শিবির রাজাকারদের এবং কুচক্রী দেশ বিরোধী মহলের অত্যাচার যেখানে সরকার অনেকটাই চুপ করে বসে থাকতো আর তামাশা দেখতো। সেই সময়ে গলাকাটা বা পা কাটা বা হাত পায়ের রগ কাটা আতংক ভর করতো সারাদেশে এবং অনেক পরিচিত অপরিচিত মহলের লোকজনের ও হাত/পা/গলা কাটাও গেলো। অনেকে মারাও গেলো। ১৯৯৫ সালে ক্ষমতার পালাবদলে অনেকেই ভাবলো যে- এইবার বুঝি দালাল রাজাকারদের ফাসি হবে। গনআন্দোলনের ফসল ঘরে তোলা যাবে। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে সেই সরকারের আমলেও দালাল রাজাকার, দেশবিরোধী কুচক্রী মহলের সবাইকে ফাসির কাষ্টে ঝুলানো গেলো না। সেই সময়ে খুব শক্তিশালী সাপোর্ট ছিলো এশিয়াতে - ইউএসএ আর্মি এর উপস্থিতি যারা অণ্যায়ের পক্ষে সবসময় লড়াই করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে ভয়াবহ এক আকার ধারন করলো-এইবার একবারে দেশবিরোধী চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো এবং সরাসরি জাতীয় সংসদের শিল্পমন্ত্রী র পদ ও পেয়ে বসলো। সারা দেশে শুরু হলো অসন্তোষ। যেভাবেই হোক এই দেশবিরোধী চক্রকে থামাতে হবে এবং তাদের ফাসির রায় কার্যকর করতে হবে। শুরু হলো নতুন করে আন্দোলণ এবং পথচলা। আর এই আন্দোলন সেই সময়ে টিকাইয়া রাখলো ইন্টারনেট। ১৯৯০ এর গন জাগরন- গন আন্দোলনের দাবী- দালাল রাজাকারের ফাসি চাই - ইন্টারনেটে সঠিক পরিস্কার সুন্দর মনমানসিকতার লোকজনের মধ্যে এক দৃঢ় বন্ধন তৈরী করলো সময়ের দাবী অনুযায়ী। সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি সকলেই আস্থা হারালো। ক্ষমতার জন্য করতে পারে না এমন কোন কাজ তারা করে নাই। প্রকাশ্য দিবালোকে রাজাকারের পা ধরে ক্ষমা চাওয়া বা পাতলা ফিনফিনে সেক্সী শাড়ি কাপড় পরে রাজাকারের সাথে মিটিং করা- গোল টেবিল বৈঠক করা এইগুলো সব বিভিন্ন পত্রিকার পাতাতে এখনো ছাপা আছে। কারো মনে সন্দেহ হইলে সেই সময়কার প্রত্যেকটা পত্রিকা আপনি অনলাইনে চেক করে দেখতে পারেন। নিউজ গুলো বা সেই সময়কার যারা বড় ভাই তাদের সাথে আলোচনা করে দেখতে পারেন। ২০০৭/০৮ সালে প্রথমবারের মতো নেমে আসলো গনতান্ত্রিক বাংলাদেশে সামরিক শাসন- মঈনুদ্দিন ফখরুদ্দিন শাসন। যা আমার মতে ১৯৯০ সালের পরে সবচেয়ে ভালো সরকার। সেই সময়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো ছিলো। কোন রাজনৈতিক নেতার ই কোন সাহস ছিলো না তাদের বিরুদ্বে লড়াই করার। তৈরী করে দিয়ে গেলো পৃথিবীর ইতিহাসে সঠিক একটি ভোটার তালিকা- ৮ কোটি ভোটারের সমন্বয়ে- ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রনয়ন এবং  জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান। ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর ৪ বছর অতিবাহিত হবার পরেও আশা আকাংখা এবং প্রত্যাশার প্রতিফলন না হওয়াতে জমে উঠলো  ইন্টারনেট ভিত্তিক সেই সুস্থ মানুষদের সহযোগে গনজাগরন। শাহবাগ গনজাগরন যা আজো যারা অংশগ্রহন করেছে এবং যারা সাপোর্ট করেছে তাদের বুকে আজো শিহরন জাগায়। গড়ে তুললো একটি কম্যুনিটি। গড়ে তুললো একটি ইতিহাস। কিন্তু  স্লো বিচার কাজ শুরু হবার কারনে শুরু হলো ফাসি কার্যকর এর ধরি গতি। রাজাকারের ফাসির কার্য ই শুরু হয় ২০১০/২০১১ সালে- আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সেখানে আবার স্লো বিচার প্রসেস। 


১৯৯০ সালের আন্দোলনে তৈরী হওয়া দাবী- রাজাকার দেলোয়ার হোসনে সাঈদী, রাজাকার গোলাম আজম এবং রাজাকার মতিউর রহমান নিজামী এর ফাসি এবং বিচার কার্যকর হবার কারনে ১৯৯০ এর আন্দোলনে অংশগ্রহন করা অনেকেই শান্ত হইলো। দীর্ঘ ২৩ বছরে সেই দাবী কার্যকর হলো। আরো খুশী হলো বাংলাদেশ সরকারে মধ্যে জামায়েতে ইসলামের নিবন্ধন বাতিল হওয়াতে এবং জামাত শিবিরের রাজণীতি নিষিদ্ব হওয়াতে। ১৯৭২ সাল থেকে দেশবিরোধী জামাত শিবির চক্রের সাথে যারা জড়িত ছিলো যে কোন সময়ে যে কোন পরিস্থিতিতে- তারাও হারালো গন মানুষের আস্থা। ২০১৩ সালের শাহবাগ গনজাগরন এমন একটি আন্দোলন যা সারা বাংলাদেশের মানুষকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিলো- মানুষের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়ে তুললো কিন্তু দেশ পড়ে গেলো দুর্ভোগে। সীমাহীন  দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারনে আমি আজো এই সরকারের মুচলেকা দিয়ে পদত্যাগ আহবান করি।  ১০ টাকার চালের দাম হয়ে গেলো ৫০ টাকা, পেয়াজ, আলু , রসুন , তেল সবকিছুর দাম বৃদ্বি হওয়াতে সাধারন মানুষের জীবনে নেমে আসলো  চরম দুর্ভোগ (এই করোনাকালীন সময়েও নাই প্রতি মাসে সরকারের তরফ থেকে গরীব মানুষের জন্য এবং বেসরকারি চাকুরজীবীদের জন্য  প্রতি মাসের কোন বরাদ্দ ( এই দেশেকে যে সকল দেশের সাথে তুলনা করা হয় তাদেরকে তো পেনিডেমিক শুরু হবার সাথে সাথে দিয়ে দেওয়া হছে পে চেক যাতে তারা কাজ না করেও খােইতে পারে বা চলতে পারে- আর আমাদের দেশ শুরু হয়েছে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে টাকা পয়সা কামানোর ধান্দা [পত্রিকাতে দেখলাম লেখা] ।  এখন আর একজন গরীব মানুষের ৫০০ টাকাতেও ৩ বেলা চলে না। প্রতিদিন জুটে না কাজও । তারপরেও মানুষ চোখ মুখ বুঝে খেয়ে না খেয়ে একটি পরিস্কার সুষ্ট সুন্দর সাধারন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নতুন সরকার প্রতিষ্টা করার মাধ্যমে তাদের অভাব দুর্ভোগ এবং দুর্ভাগ্য গোচানোর আশাতে আছে। যা উপহার দিতে পারে শুধূ মাত্র পরিস্কার এবং কোন ধরনের অভিযোগ মুক্ত জাতীয় নির্বাচন। 

পূর্ববর্তী সকল রাজনৈতিক লোকগুলোর কারো না কারো সাথে ছিলো দেশবিরোধী দের অনেক আতাত। ২০০১-২০০৬ সালে পাক হানাদার বাহিণীর রাজাকার মতিউর রহমান কে দেয়া হয় শিল্পমন্ত্রীর পদ যা সারা দেশে ঘৃনার উদ্বেগ করে। দাবী উঠে পরবর্তী সরকার আসলে পতাকার পরিবর্তনের। দাবী উঠে যুদ্ব চলাকালীন সময়ে ব্যবহৃত মুক্তিযোদ্বাদের পতাকাকে জাতীয় পতাকা হিসাবে সম্মান দেবার। শিল্পমন্ত্রী নিজামীর গাড়িতে লাল সবুজের পতাকা-   এর চেয়ে বড় পতাকার অবমাননা আর কখনো বাংলাদেশে হয় নাই। সেই জন্য ই বোধ করি (যারা এ সুযোগ করে দিয়েছিলো) আর কখনো তারা ক্ষমতার স্বাদ গ্রহন করতে পারবে না। একটি ভুলই সারা জীবনের কান্না হিসাবে থাকবে। তবে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হবার কারনে এবং বিগত ৫ বছর সংসদে না থাকার কারনে বাংলাদেশের অনেকেই প্রনীত জন নিরাপত্তা বিষয়ক আইনগুলো যাচাই বাছাই করার জন্য তাদেরকে অনেক সময় বিরোধী দলে চায় কিন্তু নতুন তৈরী হওয়া শাহবাগ গনজাগরন পন্থী রাজণেতিক দলগুলো সেখানে তেমন কোন সম্মতি জ্ঞাপন করে না। যারা ইতিহান তৈরী করলো- প্রকাশ্য দিবালোকে রাজাকার কে ফাসিতে ঝুলাইয়া দিলো (যা কিনা আগে কেউ করে দেখাইতে পারে নাই) তারাই আসলে জানে দেশকে কিভাবে পরিচালিত করতে হবে। তারা তাদের মাতৃভূমি তে তৈরী করেছে নতুন রাজনৈতিক দল। অন্য কোন দেশ থেকে অন্য কোন রাজণেতিক মতাদর্শে পরিচালিত হয় নাই কখনোই। তারা তৈরীই হয়েছে গনজাগরনের তুমুল আন্দোলনের গন আন্দোলনের মূহুর্তে। তাদেরও আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটবে। কারন রেভ্যুলুশ্যন তৈরী ই হয় ইতিহাস তৈরী করার জন্য। তারা ও বসে আসে ইতিহাস রচনা করার জন্য। সমাধান দিতে পারে একটি সঠিক সুষ্ট নির্বাচন। তারাই একমাত্র পারসান যারা খালি মুখে সুর করে বলতে পারে জয় বাংলা। জয় বাংলা একটি শক্তি যা খালি মুখে উচ্চারন করতে সাহস এবং সত সাহস লাগে। 

বস্তাপচা রাজনীতি আর একই প্যাচাল বার বার কানের মধ্যে তুলো ঘুজতে বাধ্য করে। এইটা এক ধরনের অত্যাচারের মতোনও আমার জীবনে। আমি আমার ব্যক্তিগত ধ্যান ধারনার বাংলাদেশকে শাহবাগ গনজাগরনপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে  দিয়ে দিয়েছি মন থেকে কোন ধরনের বিনিময় ছাড়াই। আর আমি এই আশাবাদও ব্যক্ত করি একজন অবলোকক হিসাবে- একজন জয় বাংলা পন্থী মুক্তিযোদ্বা যে কিনা জয় বাংলা বলে স্বাধীনতা যুদ্বে অংশগ্রহন করেছে- স্ত্রী, প্রেমিকা, আত্মীয়, পরিবার পরিজন ছেড়ে দেশ রক্ষার জন্য যুদ্বে অংশগ্রহন করেছে এবং বীর বিক্রমে সেই যুদ্ব জিতে আজো স্বাধীন বাংলাদেশে বসে আছে- সেই ধরনের একজন জয় বাংলা র মুক্তিযোদ্বাকে আমি এদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই। আমি চাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিষয়ক সচিবালয় একজন মুক্তিযোদ্বাকে দেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেবে (প্রয়োজনে টেকনোক্রাট কোটাতে হলেও) এবং একই সাথে টেকনোক্রাট কোটাতে অন্যান্য মুক্তিযোদ্বাদের কে মন্ত্রী বানিয়ে সরাসরি মন্ত্রীসভা তৈরী করবে। শাহবাগ গনজাগরনের অংশগ্রহনরত ছেলে মেয়েদের আশা আকাংখার প্রতিফলন হিসাবে তারা গনজাগরন পন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সঠিক সুন্দর সরকার গঠন করবে (এমপি হিসাবে) যেখানে আরো অন্যান্য মেধাবী মুক্তিযোদ্বাদেরকে সকল ধরনের সংসদীয় কমিটিতে নিয়োগ করবে এবং গনজাগরনপন্থী ছেলে মেয়েরা সারাদেশ থেকে তাদের জাতীয় সংসদ প্রতিনিধিত্ব কারী এমপি পদ গুলো বাগিয়ে নিয়ে আসবে এবং মুক্তিযুদ্ব চলাকালীন জয় বাংলা বলে জীবন দেওয়া মুক্তিযোদ্বাদের এবং জীবিত মুক্তিযোদ্বাদের স্বপ্ন গুলো একসাথে করে একটি সরকার ব্যবস্থা  তৈরী করে দেশের সকল মানুষের মুখে হাসি ফুটাবে। 

জয় বাংলা বলে যুদ্বে অংশগ্রহন করা, রাইফেল কাধে নিয়ে সারারাত দেশ পাহারা দেয়া বা শুত্রুদের বুকে গুলি চালানো  একজন মুক্তিযোদ্বাকে আমি বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই। 

No comments:

Post a Comment

Thanks for your comment. After review it will be publish on our website.

#masudbcl

Marketplace. Freelancing outsourcing Bangla Tutorial.

Marketplace English Tutorial. Freelancing.Outsourcing.

Search Domain on Namecheap com

#masudbcl #namecheap #namecheapdomain #namecheapdomainsearch