Translate

Friday, November 27, 2020

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং রাজনৈতিক সরকার।

ভালো এবং মন্দ এই দুইটা মিলিয়েই দুনিয়া। দুনিয়াতে ভালো মানুষ ও থাকবে খারাপ মানুষ ও থাকবে। ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের বিস্তার ধীরে ধীরে। একসময় প্রচার তারপরে প্রসার এবং লোড সামলাতে না পেরে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ে সাবমেরিন ক্যাবলের লাইন টানে। আমাদের দেশে একটা ব্যাপারে অনেকেই ভুল করে থাকে: তা হলো রাজনৈতিক সরকার কে প্রধান ক্ষমতাবান মনে করে। ব্যাপারটা একটু ভুল আছে। বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার দেশ।  সেখানে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিদ্বান্ত গুলো পৌছানোর জন্য একজন রাজনৈতিক নেতার বা জনপ্রতিনিধির দরকার হয়। সরকার তার কাছে সিদ্বান্ত গুলো সেন্ড করে আর জনপ্রতিনিধিরা সেই সিদ্বান্ত কে সকলের সামনে প্রকাশ করে। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়  সকল ধরনরে মন্ত্রনালয় এবং সচিবালয়ের সমন্বয়ে। মন্ত্রনালয় এবং সচিবালয়ে যারা জয়েন করে তারা সবাই সরকারের বিসিএস ক্যাডার বা মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিয়োজিত নন ক্যাডার। এরাই আসলে বাংলাদেশ সরকারের অবকাঠামো। সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্বশাসনের  সমন্বয়ে যে সরকার ব্যবস্থা সারা দেশ জুড়ে গঠিত তাকে বলা হয় গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবকাঠামো যা ৭১ এ মুক্তিযোদ্বারা তাদের যুদ্বের ফাকে ফাকে তৈরী করেছে। ভবিষ্যত বাংলাদেশ কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশের অবকাঠামো কিভাবে তৈরী হয় সেটা যুদ্বের সময়েই রাত না জাগা মুক্তিযোদ্বারা তৈরী করেছেন আর যুদ্ব শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে তা বাস্তবায়ন করেছে। 



নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন রচয়িতা শাহবাগ গনজাগরন ২০১৩


সেখানে রাজনীতিবিদদেরকে যুক্ত করা হয় শুধুমাত্র সরকারি সিদ্বান্ত গুলো জনগনের সামনে প্রকাশ করার জন্য। সরকারের একজন সচিব কর্তৃক গৃহীত সিদ্বান্ত নিশ্চয়ই মন্ত্রনালয় বা সচিবালয়ের বাহিরে  এসে সাধারন মানুষকে বলার কথা না- সাধারন মানুষ তার কথা শুনবে না। সেজন্য জনপ্রতিনিধিদের কে মনোনয়ন করা হয় এবং তারা সরকারের সিদ্বান্তগুলেোকে সাধারন মানুষের কাছে পৌছে দেয়ে। আবার সাধারন মানুষের কথা সরকারের কানে আনার জণ্য নেয়া হয় জাতীয় সংসদ কর্তৃক মনোনীত প্রত্যেক এলাকার জন প্রতিনিধি সেগুলো দেশবাসী এবং সরকারের সামনে তুলে ধরে। সরকারের ণীতি নির্ধারক পর্যায়ের যারা সচিব বা আমলা তারা আবার সেগুলো নিয়ে ডিসকাশন করে প্রয়োজনে গবেষনা বা পূর্বকার গবেষনার সাহায্য নেয় তারপরে সেগুলো যদি একটি মন্ত্রনালয়ে ব্যাপার হয় তাহলে মন্তনালয়ের মিটিং এ আর যদি বহু মন্ত্রনালয়ে বিষয় হয় তাহলে (Inter Ministerial Secretarial Committee- IMSC) সব মন্ত্রনালয়ের মিটিং এর মাধ্যমে সিদ্বান্ত গ্রহীত হয় এবং তা যাচাই বাছাই হয় এবং তারপরে সেটা আইন বা প্রজ্ঞাপন আকারে জনসম্মুক্ষে প্রকাশ করা হয় এবং জনপ্রতিনিধিদেরকে একটি কপিও দেয়া হয় এবং তারা সেটা নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় প্রকাশ করে থাকে। তার আগে তারা সেটা যাচাই বাছাই করার সুযোগ পায়- নিজস্ব মতামত কিছু এড করারও সুযোগ পায় জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে। সরকারের গৃহীত একটি পদক্ষেপ যদি সকল রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য রা বিরোধিতা করে তাহলে সেটা বাতিল হয়ে যাইতে পারে।



রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য পদের জনপ্রতিনিধিদের জন্য স্থায়ী কোন বেতন কাঠামো নাই। এমন না যে একবার এমপি বা মন্ত্রী হলো আর সারাজীবন বেতন ভোগ করলো। যেটা আছে- সেটা ভাতা বলা হয়। এক টার্মে জাতীয় সংসদে যারা জনপ্রতিনিধি হয়ে আসে তাদেরকে চলা ফেরা বা খাওয়া দাওয়া বাবদ সরকার একটি খরচ বা ভাতা দিয়ে থাকে। আর যখন জাতীয় সংসদ শেষ হয়ে যাবে তখন পুনরায় নির্বাচন এর জণ্য তাদেরকে জাতীয় সংসদ ছেড়ে জনগনের কাছে ভোট ভিক্ষা চাইতে হয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেখেছি অনেক- ভোটের সময় মুসলিম ধর্মকে ব্যবহার করতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না। মাথাতে হিজাব আর হাতে তাসবিহ নিয়েও অনেকে ভোট চেয়েছে ভোটের আগে, ভোটে জেতার পরে আর মাথাতে হিজাবও নাই আর হাতে তসবহিও নাই। যে কোন রাজনৈতিক সরকারকে ভেংগে দিতে পারে ৩ ধরনের ক্ষমতা: 

  • বাংলাদেশ সরকারের জনগনের সর্ব্বোচ্চ কোর্ট হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট। 
  • গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি। 
  • নির্বাচন কমিশন সচিবালয়


এই ৩ টা ক্ষমতার যে কোন একটি যদি বলে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার বাতিল- তাহলেই সেটা আপাত বাতিল হয়ে যাবে। নতুন করে ভোট এর ডেট পড়বে। একজন অভিজ্ঞ মুরব্বীকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম: দেশে যে  এতো অরাজকতা, সমানে ইট বালূ রড সিমেণ্টের রাসআত ঘাট রোড কালভার্ট বানানো চলাতছে যা কিনা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে (ভূুমকম্প) লন্ডভন্ড হয়ে যাইতে পারে আর সমানে গরীব মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েই চলতাছে হাতের নাগারেল বাহিরে চলে যাইতাছে থেকে পরিত্রানের উপায় কি- তখন উনি উত্তর দিলেন : এ দেশের মানুষ যদি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বুঝতে পারে আর গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাথে রাজনৈতিক সরকারের পার্থক্য টা বুঝতে পারে - তাহলে এ রাজনৈতিক সরকারের পরিবর্তন হবে। 




বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচন কমিশন সচিবালয় যে জাতীয় পরিচয়পত্র আইন তৈরী করেছে তা কার্যকর করার প্রথম দ্বায়িত্ব নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশ্লিষ্ট লোকজনের (আমি একটা প্রজেক্টে কর্মরত ছিলাম ২০০৯ সালে- ফিল্ড পর্যায়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রনয়ন এর কাজে) । একসময় ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান এবং ভোটার তালিকা প্রনয়ন (জাতিসংগের ইউএনডিপির প্রজেক্ট ছিলো ১০ বছর: ২০০৮-২০১৮) এখন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একটি অংগ সংগঠন ২০১৮- ২০১৯ থেকে যার পুরোপুরি দ্বায়িত্ব গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের- নাম জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ। এখন যদি আপনি ভোটের আয়োজন করতে যান তাহলে আপনাকে দুটি জিনিস অবশ্যই কনফার্ম করতে হবে: 
  1. ভোটার তালিকায় নিজের নাম ও ভোটার নম্বর
  2.  বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর

এখন কেউ যদি আইসা বলে যে জনপ্রতিনিধি কিন্তু তার উপরের দুইটার একটাও নাই তাহলে বুঝতে হবে  যে : সে পাগল বা তারা পাগল। একটি রাজনৈতিক সরকারের কি কি গঠন থাকে: 

  1. রাষ্ট্রপতি ( প্রথমে এমপি থাকলেও পরে রাষ্ট্রপতি কে এমপি পদ ছেড়ে দিতে হয়)
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. মন্ত্রী
  4. এমপি 
  5. উপজেলা চেয়ারম্যান 
  6. উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান
  7. ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার 
  8. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র 
  9. সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সেলর 
  10. সংসদীয় মহিলা এম পি, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সেলর। 


এখণ এই ১০ ধরনের লোক জনের মধ্যে যে কোন ক্যাটাগরির কেউ যদি আপনার সামনে আসে আর আপনি তাদের বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার বা ভোটার নম্বর খুজে না পান তাহলে বুঝতে হবে যে: সেখানে কোন ঝামেলা আছে। তারা কোন বৈধ জনপ্রতিনিধি না। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে যে কারো জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর খুজে পাওয়া যায়। তাছাড়া যে কোন জনপ্রতিনিধির জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভোটার নম্বর বৈধ আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা নির্বাচন কমিশণ সচিবালয়ের এখতিয়ার বা দ্বায়িত্ব। তবে চাইলে যে কেউ এটাকে চ্যালেন্জ জানাতে পারে নম্বর খুজে বের করে তা ওয়েবসাইটে মিলাইয়াও দেখতে পারে নিজের সন্দেহ দূর করার জন্য। 




বাংগালীকে মগা ভেবে/করে অনেক রাজনৈতিক দল অনেকভাবে বহু বছর ধরে হেনস্থা করে যাইতাছে। কোন সরকারই শুধূ মাত্র জনগনের কথা ভেবে কোন কাজ করে না। এখনো এমন কোন সরকারের কথা শুনলাম না: যারা সারা দেশের মানুষকে একবেলা খাওয়াইছে বা সারা দেশের সব মানুষকে একমাসের জন্য ফ্রি অর্থ বরাদ্দ দিছে। ৬০/৭০/৮০/৯০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বিল্ডিং বা রোড ঘাট না করে সারা দেশের ৬ কোটি গরীব মানুষকে জন্রপতি ৫০০০ টাকা করে দিলেও একমাসে মাত্র ৩০০০০ কোটি টাকা খরচ হবে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের। নাওয়া খাওয়া ভুলে রোড ঘাট বানানো শুরু করে দিছে: 
(যা কিনা একটা শক্তিশালী প্রাকৃতিক ভুমিকম্পই  লন্ড ভন্ড করে দিতে পারে।) এমন একটা অবস্থা যেনো দেশে কেউ বেড়াতে আসবে। একটা কথা বলে রাখা দরকার: শতরু দেশ নাকে খত দিয়ে ক্ষমা চেয়ে গেছে ২০১৩ সালে সংঘটিত শাহবাগ গনজাগরনের সময়। বাংলায় কথা বলে প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার লম্বা এলাকা। বাংলা কম বড় এলাকা না। সামনের বছর বা এখন চলতাছে স্বাধীনতার ৫০ বছর পুর্তি। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রিতে প্রথমে যে লোকটা রাজধানী ঢাকা শহরে নিহত হয় সেদিন থেকেই (১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত (৭১ সালকেই একবছর ধরে)  প্রায় ৫০ বছর চলতাছে। ৭১ কে একবছর/প্রথম বছর হিসাবে ধরে) স্বাধীনতার প্রচেষ্টা শুরু্।  সেই হিসাবে এই বছর ২৫ শে মার্চ  থেকেই শুরু হয়েছে সেই স্বাধীনতা যুদ্বের প্রথম শহীদের মৃত্যু ক্ষনের ৫০ বছর শুরু। আর শেষ হবে এ বছর বা সামনের বছরের ১৬ ই ডিসেম্বর। স্বাধীনতা যুদ্বে বাংগালীর অংশগ্রহন আর মৃত্যুর মিছিলের ৫০ বছর  প্রায় যাইতাছে এখণ। শুনেছি জয় বাংলার বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি তে সারা দেশ একবছর বিজয় উৎসব এবং এক বছর বন্ধ থাকবে। কোভিড করোনা পেনিডেমিক সেই কথা সত্য প্রমান করে দিলো। সবচেয়ে ভালো এবং বড় বিজয় হতো সম্পূর্ন ৭১ এর দেশবিরোধী প্রজন্ম মুক্ত বাংলাদেশে বিজয় উৎসব করা। 

No comments:

Post a Comment

Thanks for your comment. After review it will be publish on our website.

#masudbcl

Marketplace English Tutorial. Freelancing.Outsourcing.